ঘন, লম্বা ও উজ্জ্বল চুল পেতে অনেকেই নানা ধরনের ঘরোয়া টোটকার ওপর ভরসা করেন। তবে চুলের সুস্থতার জন্য বাইরে থেকে যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি খাদ্যতালিকার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু বীজে থাকা আয়রন, জিঙ্ক, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান চুলের গোড়া ও স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে মাত্র ১০ দিনে চুল দ্রুত লম্বা হওয়ার দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
কুমড়োর বীজ
কুমড়োর বীজে রয়েছে জিঙ্ক, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড। এসব পুষ্টি উপাদান চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে, যেমন এক টেবিল চামচ কুমড়োর বীজ খাওয়া যেতে পারে।
সূর্যমুখীর বীজ
ভিটামিন ই, সেলেনিয়াম ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভালো উৎস সূর্যমুখীর বীজ। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি চুল ও স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
তিসির বীজ
উদ্ভিজ্জ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের অন্যতম উৎস তিসি। খাদ্যতালিকায় তিসি রাখলে শরীরে প্রয়োজনীয় ফ্যাট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান যোগ হয়। হালকা ভেজে গুঁড়া করে তিসি খাওয়া যেতে পারে।
তিল
তিলে রয়েছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক ও কপারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে এটি ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে তিল খাওয়া যেতে পারে।
চিয়া সিড
চিয়া সিডে রয়েছে ওমেগা-৩, প্রোটিন, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এটি শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে। সাধারণত পানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে চিয়া সিড খাওয়ার প্রচলন রয়েছে।
সবগুলো একসঙ্গে খাওয়ার প্রয়োজন নেই
চুল ভালো রাখতে প্রতিদিন পাঁচ ধরনের বীজ একসঙ্গে খাওয়ার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে দুই থেকে তিন ধরনের বীজ খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও জরুরি।
চুল পড়লে শুধু বীজের ওপর নির্ভর নয়
চুল পড়ার পেছনে পুষ্টির ঘাটতি ছাড়াও হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা বা অন্য কারণ থাকতে পারে। তাই দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত চুল পড়লে শুধু বীজ বা ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জি বাংলা ডেস্ক